বান্দরবানে ৪৫ কোটি টাকার প্রকল্প গায়েব: ভুয়া পচার ও তথ্য ব্ল্যাকআউটে দুর্নীতি ঢাকার মাস্টার প্ল্যান

0
1

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত সংবাদ ৬সেপ্টেম্বর ২০২৬

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে বাস্তবায়নাধীন প্রায় ৪৫ কোটি ১৬ লাখ টাকার প্রকল্পে চরম অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মাঠপর্যায়ে বেশিরভাগ বাস্তবায়নের অস্তিত্ব না থাকলেও কাগজে-কলমে শতভাগ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে পুরোটাই উত্তোলন করা হয়েছে। দুর্নীতির এ চিত্র সামনে আসার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে অর্থের বিনিময়ে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
​নিয়ম ভেঙে পদায়ন ও অনিয়মের জাল
​কারিগরি অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ২৫তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামকে এই পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) করা হয়েছে। একজন প্রকৌশলী না হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে কীভাবে এই পদের দায়িত্ব দেওয়া হলো—তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
​অন্যদিকে, ডিপিডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিতর্কিত নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে। অভিযোগ রয়েছে, এই দুই কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ যোগসাজশে প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থ পকেটে গেছে।
​দুর্নীতির মূলচিত্র ও ভুয়া প্রচারের কৌশল
​ভুয়া তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন: দুর্নীতি ঢাকতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর গণমাধ্যমে টাকার বিনিময়ে চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। ৫০টি পাড়ায় পানির দুর্ভোগ দূর করার দাবি করা হলেও তথ্যের প্রমাণ মিলছে মাত্র ২টি পাড়ায়।
​তথ্য গোপনের নির্দেশ: তথ্য অধিকার আইনে আবেদন গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। ফলে স্থানীয় সাংবাদিকরা বিল-ভাউচার ও ব্যয়ের তথ্য চাইতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ছেন।
​মাঠপর্যায়ে শূন্য কাজ: বরাদ্দের পুরো অর্থ উত্তোলন করা হলেও প্রকল্পের অধিকাংশ ভৌত অবকাঠামোর বাস্তব উপস্থিতি নেই।
​অধরা অভিযুক্তরা, প্রশাসনিক নীরবতা
​দুর্নীতির সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পরও অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে স্ব-পদে বহাল রয়েছেন অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা। এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য তাঁদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা এবং অফিসে গিয়েও তাঁদের পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তাঁরা সাড়া দেননি। মন্ত্রণালয় পর্যায়ে এ নিয়ে আলোচনা থাকলেও কার্যকর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে বান্দরবানের স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here