বিষেশ প্রতিনিদি:ঢাকা
সোশ্যাল মিডিয়ায় গত দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) প্রায় ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল আসার দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিফাত আব্দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি। ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণকে ‘পরিবারকে জিম্মি করা’ বলে আখ্যা দেন। তবে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর তদন্তে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও চমকপ্রদ তথ্য।
তদন্ত অনুযায়ী, একক কোনো মিটারে নয়, সিফাত আব্দুল্লাহর পরিবারের মালিকানাধীন দোতলা বাড়িতে মোট ৩টি ভিন্ন আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার রয়েছে। এসব মিটারের মাধ্যমে পুরো পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় আংশিক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে।
গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের উপ মহাব্যবস্থাপক মো. আহসান কবীর স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত মূল তথ্যসমূহ:
তিনটি মিটারের ৪ মাসের (মে-আগস্ট) বিদ্যুৎ ব্যবহারের চিত্র
| মিটার নম্বর | মে (ইউনিট / বিল) | জুন (ইউনিট / বিল) | জুলাই (ইউনিট / বিল) | আগস্ট (ইউনিট / বিল) | মোট ব্যবহার ও বিল |
|---|---|---|---|---|---|
| S000433*7 | ৪৫ / ৩১৭ টাকা | ৫০ / ৩৪২ টাকা | ১৫০ / ১,১৮২ টাকা | ৭৫ / ৫১৩ টাকা | ৩২০ ইউনিট / ২,৩৫৪ টাকা |
| S000218*5 | ২৫০ / ১,৮১২ টাকা | ২০০ / ১,৫৮৪ টাকা | ৪০০ / ৩,৫৯৪ টাকা | ২৮৫ / ২,৩৯৭ টাকা | ১,১৩৫ ইউনিট / ৯,৩৮৭ টাকা |
| S000424*7 | ১২৫ / ৮৪৭ টাকা | ১২০ / ৬৯০ টাকা | ২০৫ / ১,৬৩৩ টাকা | ১৭৫ / ১,৩৬২ টাকা | ৬২৫ ইউনিট / ৪,৫৩২ টাকা |
| সর্বমোট | ৪২০ ইউনিট / ২,৯৭৬ টাকা | ৩৭০ ইউনিট / ২,৬১৬ টাকা |
তদন্তে বাধা ও অসহযোগিতার অভিযোগ
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত সিফাত আব্দুল্লাহদের (পিতা: মো. সেকান্দার আলী) বাসভবনে ইলেকট্রিক পণ্যের প্রকৃত ব্যবহার ও লোড যাচাইয়ের জন্য পল্লী বিদ্যুতের একটি দল পরিদর্শনে যায়। কিন্তু বাড়ির লোকজন ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক পণ্যের তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং গেট বন্ধ করে দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের কাজে বাধা প্রদান করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, তিনটি আলাদা মিটার ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রকৃত চিত্র গোপন রেখে একটি নির্দিষ্ট মিটারের ওপর ভিত্তি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। কোনো বাসার সঠিক বিদ্যুৎ খরচ ও বিল মূল্যায়ন করতে পুরো বাড়ির সবগুলো মিটারের সম্মিলিত ব্যবহার বিবেচনা করা অপরিহার্য।