বান্দরবানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলে দুর্নীতির মহাউৎসব: দুদকের হানা, কোটি কোটি টাকার প্রকল্পে পুকুরচুরি

0
1

​ বান্দরবান:

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নের নামে সরকারি বরাদ্দের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) বিরুদ্ধে। নিম্নমানের কাজ, আংশিক কাজ শেষ করে প্রকল্প ফেলে রাখা, ভুয়া বিল ভাউচার এবং টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগে শেষ পর্যন্ত জেলা কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, পার্বত্য এই দুর্গম জেলায় স্থানীয়দের নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। তবে মাঠপর্যায়ে সেবার চিত্র উল্টো। লামা সদর ইউনিয়নের বইল্লারচর, লামা পৌরসভা ও আজিজনগর বাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকার পানি সরবরাহ প্রকল্প উদ্বোধনের পরপরই বন্ধ হয়ে গেছে। বিপুল অর্থ ব্যয়ে স্থাপিত প্রকল্পগুলো এখন অকেজো হয়ে পড়ে আছে। সম্প্রতি বাস্তবায়নাধীন প্রায় ১২ কোটি টাকার একটি স্যানিটেশন প্রকল্পে প্রকাশ্যে অতি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেন স্থানীয় উপকারভোগীরা। কর্মকর্তাদের বারবার জানানো সত্ত্বেও কোনো কার্যকর পদক্ষপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

​ডিপিএইচই-এর দরপত্র ও কমিশন বাণিজ্য নিয়েও উঠে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০২৪ সালে অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে-এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে নির্দিষ্ট হারে কমিশন নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া অধিদপ্তরের একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি বাঁচিয়ে নামে-বেনামে ঠিকাদারি ব্যবসা ও টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন বলেও জানা গেছে।

​এদিকে, এসব দুর্নীতি ও অনিয়মের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালিয়েছে দুদক। অভিযানকালে দুদক টিম সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর নথিপত্র, টেন্ডার ফাইল, চুক্তিমূল্য ও বিল পরিশোধের রেকর্ডপত্র জব্দ করেছে এবং সরেজমিনে কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শনে যায়।

​অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদক কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রতিটি প্রকল্পের নথি, দরপত্র, চুক্তিমূল্য, কাজের অগ্রগতি ও বিল পরিশোধের কাগজপত্রের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কোনো শিথিলতা দেখানো হবে না।

​দুর্নীতির বিষদ ও যোগাযোগের বিষয়ে জানতে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে-এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

​বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পাহাড়ি এলাকায় বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকা ঢালা হলেও দুর্গম এলাকার মানুষ এখনো সুপেয় পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। শুধু কাগজ-কলমে কাজের হিসাব না দেখে, নকশা অনুযায়ী সঠিক উপাদানে কাজ হয়েছে কি না এবং জনগণের কাজে আসছে কি না তা তদন্তের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে বের করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here