ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হয়রানি’, কাঠগড়ায় শিবিরকর্মী-সমর্থকরা

0
2

​বিশেষ প্রতিবেদন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনবরত ‘ট্যাগ’ দিয়ে নাজেহাল ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। ক্লাসের নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্যের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় তাকে এই সাইবার বুলিং ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

​শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে এ গুরুতর অভিযোগ তোলেন এই শিক্ষিকা।

​হয়রানির সূত্রপাত ও মূল ঘটনা

শিক্ষিকা মোনামীর অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী—যার মধ্যে অন্তত একজন শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত বা সমর্থক—নিজের ক্লাসের নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্রমাগত আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্য করে আসছিলেন। সেই নারী শিক্ষার্থীদের তালিকায় তাকেও (শিক্ষিকাকে) যুক্ত করে হেনস্তা করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি জড়িতদের বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্রমণ

আইনি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়ার কথা জানতে পেরেই ওই গোষ্ঠীটি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সমন্বিত সাইবার আক্রমণ শুরু করে। পোস্টে মোনামী উল্লেখ করেন:

  • ​ধারাবাহিক বুলিং: তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনবরত ট্যাগ করে কটু কথা ও টিপ্পনী কাটা হচ্ছে।
  • ​বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্টতা: এই অপপ্রচারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই একদল ছাত্র সরাসরি জড়িত।
  • ​পূর্ব অবস্থানকে কেন্দ্র করে কটূক্তি: রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে এনে তাকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে।

​ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামী তার ফেসবুকে লেখেন, “এরা হয় ডাইরেক্ট হ্যারাস করবে, নয়তো ইন্ডাইরেক্টলি। কিন্তু তাদের যা দরকার তা হলো একজন নারীকে হয়রানি করা, সে যে-ই হোক না কেন।”

​ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষক ও নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং সাইবার সুরক্ষার বিষয়টি এই ঘটনার পর নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here