লামায় ৪০ ইটভাটার জন্য পাহাড় কাটার বিষয়ে হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ: ৩ দিনের মধ্যে আইনি ব্যবস্থার আদেশ

0
2

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​বান্দরবানের লামা উপজেলায় ইটভাটার জন্য বেপরোয়া পাহাড় কাটা বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী তিন দিনের মধ্যে পাহাড়ি অঞ্চলটিতে অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি, প্রয়োজন অনুযায়ী বান্দরবান আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডারকে এ কাজে পূর্ণ সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

​মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’ (এইচআরপিবি)-এর পক্ষে দায়ের করা এক জনস্বার্থের রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করেন।

​আদালতের নির্দেশনাসমূহ:

  • ​মনিটরিং টিম ও ৩ দিনের আল্টিমেটাম: বান্দরবানের জেলা প্রশাসক (DC), পুলিশ সুপার (SP) এবং লামার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (UNO) সমন্বয় করে একটি মনিটরিং টিম গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই টিমকে ৩ দিনের মধ্যে লামায় সব ধরনের পাহাড় কাটা বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে।
  • ​৭ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা ও ৩০ দিনে প্রতিবেদন: পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ৭ দিনের মধ্যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ১৫ ধারা অনুযায়ী অভিযুক্তদের শাস্তি ও অর্থদণ্ড নিশ্চিত করে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
  • ​সেনাবাহিনীর সহায়তা: অভিযান চলাকালে স্থানীয় প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী বান্দরবান আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডারকে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

​রুলের প্রেক্ষাপট:

সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিক ‘৪০ ইটভাটার জন্য পাহাড় ধ্বংস’ শিরোনামে বিশেষ অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনটি যুক্ত করে গত ৩০ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী ও রিপন বাড়ৈ এইচআরপিবি-এর পক্ষে রিটটি দায়ের করেন।

​আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দিন মো. হানিফ।

​আদালত পরিবেশ সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ১১ জন বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। রুলে লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here