বিশেষ প্রতিনিধ :চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়:
এক নম্বর গেট থেকে জিরো পয়েন্ট সড়কে সিএনজি অটোরিকশাচালকদের অনিয়ন্ত্রিত ভাড়া বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের যাত্রী ভোগান্তি নিরসনে ক্যাম্পাসে ‘চক্রাকার বাস সার্ভিস’ চালুর দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ৪০ মিনিট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক তালাবদ্ধ করে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (চাকসু) নেতারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সিএনজি চালকদের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে চবির ২৮ হাজার শিক্ষার্থী। সোমবার দিনভর গ্যাস সংকটের অজুহাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। বিষয়টি প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি।
ঘটনার গতিপ্রকৃতি ও মূল পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- ফটক অবরোধ ও বিক্ষোভ: সন্ধ্যার পর সিএনজি চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত বাসগুলো ১ নম্বর গেট দিয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, যদিও শিক্ষকদের বাস অবাধে প্রবেশ করে। এর প্রতিবাদে রাত ৮টা ৪০ মিনিটে চাকসু নেতারা শিক্ষার্থীদের বাস আটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। এর ফলে সড়কের দুই পাশে বহু যানবাহন আটকা পড়ে।
- চাকসুর স্পষ্ট বার্তা: চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ঈশাক ভূঁইয়া জানান, ১ নম্বর গেটের সিএনজি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের শোষণ করছে। প্রশাসন স্থায়ীভাবে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু না করা পর্যন্ত এই অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে না।
- প্রশাসনের বক্তব্য: সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন নিশ্চিত করেন যে, কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই ১ নম্বর গেট থেকে নির্ধারিত ৭ টাকার জায়গায় ১০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছিল। তিনি জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন দুটি বাস চলাচলের সিদ্ধান্ত নিলেও আন্দোলনকারীরা চাবি নিয়ে নেওয়ায় বাসগুলো চালু করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস সংকট থাকায় অনেক বাস ভাড়া করে চালাতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
রাত সাড়ে ১০টা শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক অবরুদ্ধ ছিল এবং ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনড় অবস্থানে রয়েছে চাকসু নেতৃবৃন্দ।