অনিয়মেই অকেজো শতকোটির টাকার পানি প্রকল্প বান্দরবান জুড়ে হাহাকার

0
2

#টেন্ডার ভাগাভাগি-অনিয়মের অভিযোগ, অকেজো প্রকল্পে ভোগান্তি পাহাড়বাসীর
#মোজাম্মেল পর্বের পরও বদলায়নি জনস্বাস্থ্যের টেন্ডার সিন্ডিকেট

ইলিয়াছ সানি।
দুর্গম পাহাড়ে সুপেয় পানি পৌঁছে দিতে বছরের পর বছর ধরে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে সরকার। নির্মাণ করা হচ্ছে গভীর নলকূপ, গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম (জিএফএস), রিংওয়েল, পানি সংরক্ষণ ট্যাংক ও পাইপলাইন। কিন্তু বিপুল এই ব্যয়ের বিপরীতে পাহাড়ের অনেক জনপদে কমেনি পানির কষ্ট। কোথাও প্রকল্প চালুর পরই পানি সরবরাহ বন্ধ, কোথাও অর্ধেক কাজ করেই ঠিকাদার উধাও, আবার কোথাও নির্মিত স্থাপনা পড়ে আছে অকেজো অবস্থায়। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত প্রকল্পের সুফল না পেয়ে এখনো ঝিরি, ছড়া, ঝরনা ও দূরের নলকূপের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।

বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আগে থেকেই নানা অভিযোগে উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে ছিলেন জনস্বাস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে ও তৎকালীন বান্দরবান জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোজাম্মেল হক বাহাদুরের বিরুদ্ধে। তারা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের বিভিন্ন উন্নয়নকাজে পছন্দের ঠিকাদারী লাইসেন্স ব্যবহার একক প্রকল্পের কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন। একই সঙ্গে প্রকল্পের অর্থ থেকে কমিশন নেওয়া ও দরপত্র ভাগাভাগির অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টে যায়। এরপর থেকে মোজাম্মেল হক বাহাদুর প্রকাশ্যে নেই এবং স্থানীয়ভাবে তিনি আত্মগোপনে জানা যায়। ফলে আগে যেভাবে সরাসরি তাঁর উপস্থিতি ও প্রভাবের অভিযোগ সামনে আসত, বর্তমানে তার ধরন বদলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি আড়ালে থাকলেও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ এখনো মোজাম্মেল হক বাহাদুরের। তাঁর সহযোগী হিসেবে পরিচিত মোস্তফা হুজুর ও কামাল বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ এখনো দেখভাল করেন। তাঁদের মাধ্যমে প্রকল্পের বিভিন্ন সাইট পরিচালনা করা অভিযোগ উঠছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সূত্র অনুযায়ে, বান্দরবানে চারটি বড় প্রকল্পেই বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ৯৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে পাথুরে এলাকায় জিএফএস ও বিভিন্ন এলাকায় গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ প্রকল্পে বরাদ্দ ৪৪ কোটি ৫৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। বান্দরবান পৌরসভা ও তিন উপজেলা সদরে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে বরাদ্দ ৪৪ কোটি ২৫ লাখ ১০০ টাকা। এ ছাড়া পৌর এলাকার বালাঘাটা, কালাঘাটা ও বনরূপা পাড়ায় নিরাপদ পানি সরবরাহে ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং পৌর পানি সরবরাহের পানি শোধনাগার ও কেমিক্যাল সরবরাহে আরও ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কাগজে-কলমে এসব প্রকল্পের লক্ষ্য পাহাড়বাসীর পানির কষ্ট দূর করা হলেও বাস্তব চিত্র অনেক ক্ষেত্রেই ভিন্ন।

আরো জানা যায়, জেলায় বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ৪৫ কোটি ১৬ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেয় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছিল ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা, আলীকদম, নাইক্ষংছড়িসহ জেলার সাতটি উপজেলায় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করার কথা। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরনো কাজকে নতুন প্রকল্পের কাজ দেখানোসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ লোপাট করা হয়েছে। এমনকি প্রকল্প বাস্তবায়নে দরপত্র ও ক্রয়বিধি না মানার অভিযোগও উঠেছে। এই প্রকল্পে ১০টি নলকূপ স্থাপন, ১২টি জিএফএস লাইন সংস্কার, ১০টি জিএফএস নতুন লাইন নির্মাণ, ১৪০টি রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং, পানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ সংযোগসহ ৩০টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগসহ ৮৫টি পাম্প হাউজ নির্মাণ, মিমি পাম্পসহ ৮৫টি গভীর নলকূপ স্থাপন, ৮৫ কিলোমিটার বিভিন্ন ব্যাসের পাইপলাইন, ৮৫টি স্ট্যান্ড পোস্ট স্থাপনসহ ৫৮৩টি রিংওয়েল স্থাপন না করে সব লুটপাট করা হয়েছে দাবি স্থানীদের।

বান্দরবান শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরের জালালাবাদ লংগীপাড়া। কয়েক হাজার মানুষের বসবাস এই পাহাড়ি জনপদে। বর্ষায় আশপাশের ছড়া ও সাঙ্গু নদীর পানি কোনোভাবে সংগ্রহ করা গেলেও শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এই সংকট মোকাবিলায় প্রায় দুই বছর আগে কয়েকটি পাহাড়ি ছড়ায় বাঁধ দিয়ে পানি সংগ্রহ করে ট্যাংকে জমিয়ে লংগীপাড়ায় সরবরাহের উদ্যোগ নেয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের কারণে তারা কাঙ্ক্ষিত সুফল পাননি। বরং ছড়াগুলোতে বাঁধ দেওয়ার পর কোথাও কোথাও পানির স্বাভাবিক প্রবাহও ব্যাহত হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একাধিক প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি নিয়ে কাগজপত্রের তথ্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার বড় ধরনের ফারাক রয়েছে। কোথাও প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও পানি সরবরাহের মূল ব্যবস্থা সচল হয়নি, কোথাও পাইপলাইন থাকলেও পানির উৎস নেই, আবার কোথাও নলকূপ স্থাপনের পর অল্প সময়ের মধ্যেই তা অকেজো হয়ে পড়েছে। ফলে সরকারি নথিতে ‘বাস্তবায়িত’ বা ‘সম্পন্ন’ দেখানো প্রকল্পগুলো অনেক ক্ষেত্রেই মানুষের দৈনন্দিন পানির সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান করতে পারেনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাটির প্রায় তিন ফুট নিচে পাইপলাইন স্থাপনের কথা থাকলেও কোথাও কোথাও পাইপ বসানো হয়েছে মাটির ওপর দিয়ে। পানির ট্যাংক ও ছড়ার বাঁধও অনেক ক্ষেত্রে অযত্নে পড়ে আছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ট্যাংকে শ্যাওলা জমেছে, কোথাও আবার পাইপ ফেটে পানি বের হচ্ছে।

লংগীপাড়া একমাত্র উদাহরণ নয়। নথি ও স্থানীয়দের বক্তব্যে উঠে এসেছে, বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলায় বাস্তবায়িত একাধিক পানি প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

আলীকদম উপজেলা সদরের একটি প্রকল্প সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, ২০১১ সালে ২.১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি জলাধার নির্মাণের পর এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ২০২০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা কমিশন আবারও ৯.৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করে। প্রকল্পটি ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর গত ২০২৩ সালের ১২ এপ্রিল প্ল্যান্টটি উদ্বোধন করেন। তবে উদ্বোধনের দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কয়েক ঘণ্টা পানি সরবরাহ করার পর বিকেলে এটি কাজ করা বন্ধ করে দেয়।

সাবের মিয়াপাড়ার বাসিন্দা নুরুল হক বলেন, শুষ্ক মৌসুমে এই এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দেয়। এক কলসি পানির জন্য আমাকে টিউবওয়েলের খোঁজে ঘুরে বেড়াতে হয়েছে। এখনও পানি সংকট সমাধানে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

উপজেলা সদরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মঙ্গলা প্রু তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, পানির সমস্যা আমাদের সঙ্গে চিরকালই থাকবে। গত ১৪ বছরেও পানি সংকটের সমাধান হয়নি। ভবিষ্যতে যে আমি শোধনাগার থেকে নিয়মিত পানি পাব, তার কী গ্যারান্টি?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একজন চিকিৎসক বলেন, হাসপাতালে বছরের পর বছর ধরেই পানি সংকট একটি সাধারণ ঘটনা। প্ল্যান্ট উদ্বোধনের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবাই হতাশ হয়েছিল।

লামা সদর ইউনিয়নের বইল্লারচর এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, সেখানে প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ করার পর ঠিকাদার আর সাইটে আসেননি। ফলে অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে প্রকল্পটি। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। প্রকল্পটি এখন সেভাবেই পড়ে আছে।

অন্যদিকে, লামা পৌরসভার টিঅ্যান্ডডিসি ও আজিজনগর বাজারের আরও দুটি প্রকল্পও অকেজো হয়ে পড়ে আছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাদের দাবি, উদ্বোধনের প্রথম দিন পানি পাওয়ার পর আর কোনোদিন পানি মেলেনি।

বান্দরবান সদর ইউনিয়নের সুয়ালক মাঝেরপাড়া ও হাতিভাঙ্গাপাড়ার কয়েকটি প্রকল্প নিয়েও রয়েছে একই অভিযোগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব এলাকায় যেখানে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ ফুট গভীরে গিয়ে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের কথা ছিল, সেখানে মাত্র ১০০ থেকে ২০০ ফুটের মধ্যেই কাজ শেষ করা হয়েছে। ফলে প্রকল্পগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইউপি চেয়ারম্যানের দাবি, এসব প্রকল্পে বরাদ্দের ৫০ শতাংশ কাজও অনেক ঠিকাদার করেননি। ফলে কাগজে প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও মাঠে জনগণ তার সুফল পাচ্ছেন না।

প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঠিকাদারি কাজ নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, গোপন সমঝোতার মাধ্যমে অনেক কাজ আগে থেকেই ভাগ করে দেওয়া হয়। পছন্দের ঠিকাদারদের সুবিধা দিতে দরপত্রের তথ্য আগেই জানিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এমনকি অন্য ঠিকাদারদের শিডিউল কিনতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।

গত ২১ আগস্ট নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় বান্দরবানে বিভিন্ন উন্নয়নকাজের জন্য একটি বড় দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে চারটি টেস্ট টিউবওয়েল, দুটি প্রোডাকশন ওয়েল, দুটি পাম্প হাউস, দুটি আরসিসি ওভারহেড ওয়াটার ট্যাংক, মেকানিক্যাল ওয়ার্কস, পাইপলাইন নেটওয়ার্ক ও বিভিন্ন ভবন নির্মাণসহ মোট ১২টি কাজ রাখা হয়। যার আনুমানিক ব্যয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা। এই দরপত্র নিয়েও কাজ ভাগাভাগির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিটি কাজের বিপরীতে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও, ঠিকাদারি নিয়েও উঠেছে আরেক ধরনের অভিযোগ। নথি অনুযায়ী, বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের বিভিন্ন কাজে বারবার দুটি ঠিকাদারি লাইসেন্সের নাম দেখা যায়। এগুলো হলো ইউ টি মং ও রতন সেন তঞ্চঙ্গ্যার লাইসেন্স। অভিযোগ রয়েছে, জেলার আরও অনেক ঠিকাদারি লাইসেন্স থাকলেও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের কাজে ঘুরেফিরে এই দুটি লাইসেন্স ব্যবহার করা হয়। আরও অভিযোগ, লাইসেন্সধারী ব্যক্তিরা নিজেরা সব কাজ বাস্তবায়ন করেন না। ঠিকাদার রতন সেন তঞ্চঙ্গ্যা বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, তাঁর লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজ হলেও তিনি নিজে কাজগুলো করেন না। ইউ টি মং-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে ফোন কেটে দেন।

দুর্গম পাহাড়ের চিত্রের সঙ্গে বান্দরবান শহরের পানির বাস্তবতাও যেন সাংঘর্ষিক। বিপুল অর্থের প্রকল্প চললেও পৌরবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত পানি সরবরাহ পাওয়া যায় না। স্থানীয়দের দাবি, তিন-চার দিন পর এক ঘণ্টার মতো পানি সরবরাহ করা হয়। তার মধ্যেও প্রথম আধা ঘণ্টা অনেক সময় ঘোলা ও ময়লাযুক্ত পানি আসে। বনরূপা পাড়ার এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, প্রায় ২১ দিন পর্যন্ত তাদের এলাকায় পানি সরবরাহ ছিল না। উজানিপাড়া, মধ্যমপাড়া, জাদিপাড়া, কলাপাড়া, আর্মিপাড়া, মেম্বারপাড়া, বনরূপা, কাশেমপাড়া ও বাজার এলাকার বাসিন্দারাও পানির সংকটের কথা জানিয়েছেন। কোথাও গভীর নলকূপ থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে, কোথাও ঠেলাগাড়িতে ড্রাম নিয়ে পানি আনছেন মানুষ। অর্থাৎ, একদিকে শতকোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি, অন্যদিকে জেলা শহরেই পানির জন্য মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষা। এই বৈপরীত্যই প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে।

থানচি স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় কয়েক হাজার মানুষের বিশুদ্ধ পানির সংকট দূর করতে ২০২২ সালে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি সরবরাহ প্রকল্প নেওয়া হয়। কিন্তু ভূমি জটিলতাসহ নানা কারণে চার বছরেও প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হয়নি। প্রকল্পের আওতায় সদর এলাকার টিঅ্যান্ডটি পাড়ায় ৩৭ শতক জায়গায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেন না। এখনো ঝিরি, ঝরনা ও কূপের পানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দুর্গম এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহের বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে। এর মধ্যে পুরোনো ১২টি জিএফএস মেরামত, নতুন ১০টি জিএফএস নির্মাণ, ৫৮৩টি রিংওয়েল, ১৪০টি রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম, ৫০টি গভীর নলকূপ ও ৫০টি প্রোডাকশন টিউবওয়েল স্থাপনের কথা বলা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here