১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ: শাস্তি কি শুধুই বান্দরবানে বদলি?

0
1

​বিশেষ প্রতিবেদক :

​রডের বদলে বাঁশ—নির্মাণ খাতে দুর্নীতির এক চরম ও কুখ্যাত দৃষ্টান্ত। এবার সেই তালিকার নতুন সংযোজন টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ৯ নম্বর আইসোলেটেড বাসাইল সেতুর ফুটপাত নির্মাণ। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই মেগা প্রকল্পে রডের জায়গায় দেওয়া হয়েছিল বাঁশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করা এই ঘটনায় এবার প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—এমন জঘন্য জালিয়াতির শাস্তি কি শুধুই দুর্গম এলাকায় স্থানান্তর?

​অভিযোগের তির যার দিকে, সেই বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে তাৎক্ষণিক বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) করে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

​ফুটপাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে যেখানে নিরাপত্তার স্বার্থে ঢালাই দেওয়া হয়, সেখানে রডের জায়গায় কানি বাঁশের চটি বা ফালি বিছিয়ে ঢালাই দেওয়ার দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কীভাবে দায়িত্বরত প্রকৌশলী এবং তদারকি কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রধান সড়কের এক সেতুর ফুটপাতে বাঁশ ঢোকার সুযোগ পেল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা ধোঁয়াশা।

​অনুসন্ধানে জানা গেছে, জালিয়াতির বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর তড়িঘড়ি করে দফায় দফায় তদন্ত দল পাঠায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। জালিয়াতির দায়ে ইতোমধ্যে করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে। এছাড়া মাঠপর্যায়ের তদারকিতে গাফিলতির অভিযোগে একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং টাঙ্গাইল জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীসহ দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) দেওয়া হয়েছে।

​বাসাইল উপজেলা থেকে বাসাইল প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান তার স্ট্যান্ড রিলিজের সত্যতা নিশ্চিত করলেও এই বদলিকে শাস্তি নাকি দায় এড়ানোর আইওয়াশ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সেতু হলো হাজার হাজার মানুষের জীবনের সুরক্ষার বিষয়। নকশা জালিয়াতি ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের পেছনে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের যে সিন্ডিকেট কাজ করেছে, তাদের শুধু দুর্গম পার্বত্য এলাকায় বদলি করাই যথেষ্ট হতে পারে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্ল্যাকলিস্ট করা এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা হলে এমন ‘বাঁশকাণ্ডের’ পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here