বান্দরবান প্রতিনিধি:
পাহাড়ি জনপদ বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলীপাড়া বাজারে আবারো থাবা বসিয়েছে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে লাগা এই আগুনে মুহূর্তের মধ্যেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে অন্তত ১৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এতে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছেন নিঃস্ব হয়ে পড়া ব্যবসায়ীরা। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো আগুনের গ্রাসে পুড়ল ঐতিহ্যবাহী এই বাজারটি।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার শেষ রাতে বাজারের পাহারাদার প্রথম আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে পারভীন নামে এক নারীর চায়ের দোকান থেকে আগুনের লেলিহান শিখা চারপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং বিজিবি সদস্যরা যৌথভাবে চেষ্টা চালিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায় ১৩টি দোকানের মূল্যবান মালামাল।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি নীহার বিন্দু চাকমা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “আমার দুটি দোকানে থাকা কম্পিউটার, ফটোকপি মেশিন ও জেনারেটরসহ সব পুড়ে গেছে। শুধু আমারই ক্ষতি প্রায় ১০ লাখ টাকা। সবচেয়ে বড় বিষয়, রাতে দোকানে কেউ থাকেন না; সবাই ব্যবসা শেষে গ্রামে চলে যান। জনশূন্য বাজারে হঠাৎ কীভাবে আগুন লাগল, তা নিয়ে গভীর রহস্য রয়ে গেছে।” বলীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াঅং মারমাও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে নিশ্চিত করেছেন।
থানচি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন মাস্টার রহিদুল ইসলাম মৃধা জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।
অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে বারবার অগ্নিকাণ্ড
বলীপাড়া বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে আগুন যেন এক স্থায়ী অভিশাপ। এর আগে ২০২৩ সালের ২৩ ও ২৫ মার্চ—মাত্র দুদিনের ব্যবধানে দুবার আগুন লেগে বাজারের ৪৫টি স্থায়ী দোকান ও ভাসমান কাঁচাবাজারসহ মোট ৫২টি দোকান ভস্মীভূত হয়েছিল। পাঁচ বছরের মাথায় তৃতীয়বারের মতো এমন মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বারবার সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা এখন সরকারি জরুরি আর্থিক সহায়তা এবং বাজারে স্থায়ী অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জোর দাবি জানিয়েছেন