​কার্ড জালিয়াতি থেকে নথি গায়েব: রাঙ্গামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলে দুদকের বড় থাবা!

0
2

বিশেষ প্রতিনিধি:

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগের মুখে পড়েছে রাঙ্গামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ না দিয়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং ওয়াশব্লক নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

​বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী রাঙ্গামাটি কার্যালয়ে এ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে দুদকের চার সদস্যের এক উচ্চপর্যায়ের দল। অভিযান পরিচালনাকালে নথিপত্র তলব করা হলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল দেখাতে ব্যর্থ হন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

​অভিযানের নেপথ্যে যা পাওয়া গেল:

দুদক সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত উন্নয়নকাজে ধারাবাহিক অনিয়মের অভিযোগ উঠছিল। বিশেষ করে সরকারি নিয়ম মেনে ‘সর্বনিম্ন দরদাতা’ (Lowest Bidder) হওয়ার পরও কাজ না দিয়ে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে অন্য ঠিকাদারকে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হতো। এছাড়া পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে ‘ওয়াশব্লক’ নির্মাণ প্রকল্পের বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক আলামত পেয়েছে দুদক।

​অভিযান চলাকালে দুদকের টিম সরাসরি নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়ার কার্যালয়ে হানা দেয় এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র তলব করে। কিন্তু আকস্মিক এ অভিযানে নির্বাহী প্রকৌশলী অনেক প্রকল্পের প্রয়োজনীয় ফাইল ও মাস্টাররোল তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি।

​মাঠপর্যায়ে তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ:

দুদকের সহকারী পরিদর্শক আবু ছাদেক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “অভিযানের সময় নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়া সব কাজের প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে পারেননি। তবে আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও টেন্ডারের সিডিউল জব্দ করেছি, যা মাঠপর্যায়ে নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এনফোর্সমেন্ট টিম সঙ্গে নিয়ে এসেছে। এছাড়া যেসব নথি তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি, সেগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুদক কার্যালয়ে জমা দেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

​অভিযানকালে উপস্থিত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানেই অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির সত্যতা মিলেছে। জব্দকৃত নথিপত্র ও মাঠপর্যায়ের কাজের গুণগত মান পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা শেষে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও সুবিধাভোগী ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

​অভিযানটিতে দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মামুন, উপ-সহকারী পরিচালক ছরওয়ার হোসেন এবং এসআই সাজিবুল ইসলাম মাসুদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

​সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধে এ ধরনের সারপ্রাইজ এনফোর্সমেন্ট অভিযান সামনে আরও জোরদার করা হবে বলে দুদকের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here